1. admin@dainikhabigonjeralo.com : admin :
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মাদক এবং জুয়ার বিরুদ্ধে বিট পুলিশের সমাবেশ লালপুরে অন্ধ ভুমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি দিলেন জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২১ উদযাপন বুড়িগোয়ালিনীতে প্রকৃত মৎস্য চাষীদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত শরনখোলায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু টঙ্গীতে ফুটপাতে থাকা ভিক্ষুক মহিলার মৃত্যুদেহ উদ্ধার শরণখোলায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বঙ্গবন্ধু তথ্য প্রযুক্তি লীগ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে নৌকার প্রচারণায় নাটোরের নান্দ খাল খননের উদ্বোধন ভালোবাসা দিয়ে, ভালো কাজ করে আপনাদের মনে ঠাঁই চাই-বাগাতিপাড়ায় বকুল এমপি

মহীয়সী নারী বিবি আসিয়া (১ম পর্ব) দৈনিক হবিগঞ্জের আলো।

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

মহীয়সী নারী বিবি আসিয়া (১ম পর্ব)

পৃথিবীতে আল্লাহ’তালা কিছু মানব-মানবী সৃষ্টি করেছেন সীমাহীন ধৈর্য দিয়ে। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেও ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলেন। তারা দুনিয়ার আরাম-আয়েশকে পদাঘাত করে আল্লাহর ভালোবাসাকে প্রধান্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিবি আসিয়া। বিবি আসিয়া ছিলেন মিসরের অধিবাসী মুজাহিমের মেয়ে।

ঈসা (আ.) এর জন্মের ১৩৬৩ বছর পূর্বে আব্বাস শহরে বনি ইসরাইল বংশে আসিয়া এর জন্ম হয়েছিল। তাঁর পিতার নাম মুজাহিম। তিনি ছিলেন বনি ইসরাইল বংশের একজন সম্ভ্রান্ত ও ধনী, বিদ্বান এবং সর্বোপরি অতিশয় ধর্মপরায়ণ পূন্যবান ব্যক্তি। তিনি ছিলেন নবী ইয়াকুব (আ.) এর পুত্র লেবীয়ার বংশধর । মুজাহিম তার প্রিয় কন্যা আসিয়াকে মিসরের ফেরাউন (বাদশাহ) দ্বিতীয় রামসেসের সঙ্গে বিয়ে দেন।

বিবি আসিয়ার স্বামী ফেরাউন ছিল অত্যন্ত প্রতাপশালী, জঘন্য ও কুখ্যাত। নিজেকে সে প্রভু বলে দাবি করত। সে আল্লাহর প্রভুত্বকে অস্বীকার করে নিজের মনগড়া আইন-শাসন দিয়ে শাসন করত। বনী ইসরাইলের সাধারণ প্রজাদের উপর ফেরাউন বর্বর অত্যাচার চালাত। অহংকার ও দেমাগে তার মাটিতে পা পড়ত না। সে ছিল খুব কঠোর ও পাষাণ হৃদয়ের। কিন্তু এই অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করা ছাড়া বনী ইসরাইলের অধিবাসীদের আর কিছুই করার ছিল না।

একদিন রাজদরবারে প্রধান জোত্যিষী ফেরাউনের কাছে এসে বললেন, অচিরেই বনী ইসরাইলীদের মধ্যে এমন এক পুত্র সন্তান জন্ম নিবে যার হাতে ফেরাউনের পাপের সাম্রাজ্যের ধ্বংস অনিবার্য। জ্যোতিষীর এ সংবাদ বনী ইসরাইলীদের উপর অত্যাচারের আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিল। এ অসহনীয় কথা শুনে ক্রোধে উন্মাদ হয়ে গেল ফেরাউন। মনকে শান্ত করতে বনী ইসরাইলীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল। তাদের সদ্য হওয়া নবজাতক সন্তানদের ধরে এনে নিশংসভাবে হত্যা করতে লাগল। শুধু কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখা হলো। কিন্তু আল্লাহর কি মহা পরিকল্পনা!

আল্লাহ বনী ইসরাইলীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য যে শিশুকে পাঠালেন সে নিরাপদেই ফেরাউনের সাম্রাজ্যে বাস করতে লাগল। ফেরাউনের রাজপ্রাসাদের অনতিদূরে ছোট্ট এক ঝুপড়িতে ইউহানিব নাম্নী এক মহিলা বাস করতেন। সে সময় তারও পুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছিল। ফেরাউনের বর্বরতার কথা ইতোমধ্যেই সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল। তাই ইউহানিব তার সদ্যজন্ম নেওয়া সন্তানের প্রতি ফেরাউনের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার কথা ভেবে ভয়ে ও আতংকে শিউরে উঠলেন। নিজেকেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এই নিষ্পাপ ফুলের মত শিশুকে কি মেরে ফেলা হবে? হিংস্র ফেরাউনের হিংস্র হাত থেকে বাঁচাতে একাধারে তিন মাস গৃহকোণে লুকিয়ে থাকলেন তিনি।

তবে আল্লাহ পাক তাঁর সহায় ছিলেন। তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন, “এ শিশুটির জন্য একটি কাঠের সিন্দুক তৈরি কর। তারপর তাঁকে সিন্দুকের ভেতর ভরে নীল দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও। আর তোমার মেয়েকে সিন্দুকের অনুসরণ করে নীল নদের পার দিয়ে চক্কর দিতে বল। এ ঐশী আদেশ পেয়ে মুসা জননীর মন শান্ত হলো। সুন্দর একটি সিন্দুক বানানো হল। ইউহানিব নয়নের মণি মুসাকে (আ.) সেখানে রেখে দিয়ে মেয়েকে বললেন, সিন্দুকটি নিয়ে নীল নদে ভাসিয়ে দাও। প্রবাহমান নদীর ঢেউয়ের আঘাতে আঘাতে সিন্দুকটি দুলতে দুলতে এগিয়ে চলল।

সন্তানকে আল্লাহর হাতে সঁপে দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে মুসার (আ.) মা ঘরে ফিরলেন। নদীর স্রোতে ভাসতে ভাসতে সিন্দুকটি ফেরাউনের মর্মর নির্মিত সুদৃশ্য সিঁড়ির গোড়ায় এসে থামল। ফেরাউনের স্ত্রী, কন্যা, সেবিকারা এখানে বসেই নদীর শীতল হাওয়ায় গা জুড়াত। প্রাসাদের এক খিড়কি দিয়ে বিবি আসিয়া এ সিন্দুকটি দেখতে পেলেন। বাচ্চাসহ সিন্দুকটি উপরে তুলে আনা হলো। ফেরাউনের সিপাহী ও প্রহরীরা আশাপাশেই ছিল। তাদের সবার হাতেই শিশু হত্যার যাবতীয় অস্ত্র ও হাতিয়ার উন্মুখ হয়ে রয়েছে।

তাদের কাজই ছিল, বনী ইসরাইলের ঘরে কোন নবজাতকের সন্ধান পেলে তাঁকে বধ করে নীল নদে সেই লাশটা ভাসিয়ে দিবে কিংবা দূরের কোন মরু উপত্যকায় ফেলে আসবে। শিশুটিকে প্রথম দর্শনেই ফেরাউনের মনে একটি ভালবাসা জেগে উঠল। কিন্তু তাঁর আশেপাশের লোকেরা শিশুটিকে হত্যা করে ফেলতে তাকে নানাভাবে উত্তেজিত করতে লাগল। কেউ একজন বলেও ফেলল, মহারাজ! সিন্দুকে বাচ্চা রেখে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া আসলে আপনার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। জ্যোতিষীর কথা অনুযায়ী হতে পারে এই বাচ্চাটিই আপনার রাজ্য পতনের কারণ হবে।

তাদের এই কথোপকথনের মাঝে বিবি আসিয়া এক কদম সামনে এসে বললেন,“এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে পুত্র করে নিতে পারি। প্রকৃতপক্ষে পরিণাম সম্পর্কে তাদের কোন খবর ছিল না।” (সুরা কাসাস-আয়াত ৯)

বিবি আসিয়া স্বামীর কাছে এ শিশুটির ব্যাপারে তাঁর সাধারণ হুকুম বলবৎ না করার জন্য উপর্যুপরি অনুরোধ করতে লাগলেন। রাজপ্রাসাদে মূসা (আ.) তখন ফেরাউনের পুত্রবৎ হয়ে গেল। মানস সন্তানের প্রতি অগাধ ভালবাসায় আসিয়ার দিল টুইটম্বুর। আনন্দের দোলায় তিনি দুলতে লাগলেন।কৈশোর পেড়িয়ে যৌবনের সিঁড়িতে পদার্পণ করলেন মূসা (আ.)। বিবি আসিয়া তাঁর চোখের মণি মানস পুত্র মুসাকে না দেখে একমুহূর্ত থাকতে পারেনা। ফেরাউন জানত না, তাঁর গৃহেই আগ্নেয়গিরির এক ভয়ংকর লাভা বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য ধীরে ধীরে স্ফীত হচ্ছে।

  • আল্লাহকে পরিত্যাগ করে হামানসহ যারা ফেরাউনের সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়ত, বিবি আসিয়া তাদের প্রতি ভীষণ রুষ্ট ছিলেন। ভীতি ও ভক্তি নিয়ে তারা অসম্ভব সব উপাধিতে ভূষিত করত ফেরাউনকে। এগুলো দেখে বিবি আসিয়া সীমাহীন অস্থির হয়ে উঠতেন। তাঁর স্বামী যখন অহংকারে নিয়ে বলত আমিই তোমাদের মহান প্রভু। তখন বিবি আসিয়া মনে মনে বলতেন, হায়রে কপাল! কোন শয়তানের পাল্লায় যে পড়েছি। এ অন্ধ অহমিকায় আর কতকাল সে ডুবে থাকবে। কিসের নেশায় সে এ মহা মুসিবতকে বরণ করে নিচ্ছে? ফেরাউনের স্বকল্পিত প্রভুত্বকে প্রচন্ড ভাবে ঘৃণা করতেন তিনি ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত