1. admin@dainikhabigonjeralo.com : admin :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বাস্তবায়নে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে দূর্গা মন্দিরের নির্মান কাজের উদ্বোধন মাধবপুরে প্রবাসী একতা সমাজ – সেবা সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ হবিগঞ্জের মাধবপুরের ছাত্রনেতার পক্ষ থেকে ৫০০টি হত দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার বিতরণ টঙ্গীতে হাসান উদ্দিন এর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত নবীগঞ্জে দিলু তালুকদারের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে গাছ চাপায় স্বামী-স্ত্রী ও বর্জ্রপাতে এক নারী নিহত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে লালপুরে ছোট ভাইয়ের হতে বড় ভাই খুন,আটক-৫ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরী কুষ্টিয়ায় সেফটি ট্যাংকের ভিতরে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ধানের গোলা।

মোঃ সাইফুল ইসলাম
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃসাইফুল ইসলাম কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

‘গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’ গ্রাম নিয়ে প্রচলিত প্রবাদটি আজও মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। কিন্তু গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও এখন দেখা পাওয়া যায় না বাংলার ঐতিহ্য ধান, গমসহ ফসল সংরক্ষণের গোলার। মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে এখন নেই ধান, গম মজুত করে রাখার বাঁশ-বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর। দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। একসময় এখানে সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করত কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসাব কষে।কন্যা পাত্রস্থ করতেও বর পক্ষের বাড়ি থেকে ধানের গোলার খবর নেওয়া হতো। যা এখন রূপকথা। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির তৈরি করা ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত টিনের তৈরি পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মতো, যা দেখা যেত অনেক দূর থেকে। গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। এখন আর গোলা নির্মাণ শ্রমিকদের দেখা মেলে না। পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি বাঁশের ধানের গোলা একসময় গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে তা বিলুপ্তির পথে। মানুষের জীবন-মানের পরিবর্তনের ফলে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে তাদের পারিবারিক ব্যবহার্য উপকরণে। ফলে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধানের গোলার জায়গা দখল করে নিয়েছে পাটের বস্তা আর টিন বা প্লাস্টিকের তৈরি ড্রাম। এগুলো তৈরি ঝামেলামুক্ত ও সহজে বাজারে পাওয়া যায় বলে মানুষ বাঁশের গোলার পরিবর্তে এসব আধুনিক উপকরণ ব্যবহারে দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের গোলার কদর। গ্রামবাংলার বাঁশের গোলার চাহিদা কমে গেলেও কিছুটা ব্যতিক্রম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রাম। গ্রামের কিছু বাড়িতে দেখা গেছে ধানের গোলা। গ্রামের কৃষকরা বলছেন, তারা এখনো অনেকে গোলায় ধান রাখেন। আবার অনেকের গোলা পরিত্যক্ত। তবে তারা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন।
জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়নের ভবনগর গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। কৃষকরা আশপাশের চারটি মাঠে ফসল ফলান। গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, মাঠগুলোতে দুই হাজার বিঘা চাষযোগ্য জমি রয়েছে। আগে এক হাজার ২০০ বিঘায় ধানের চাষ হতো, বাকি জমিতে ফলত অন্যান্য ফসল। বর্তমানে ধান চাষ কমে ৪০০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। যে কারণে গোলার ব্যবহার কমে গেছে। তিনি নিজেও ধান গোলায় রাখতেন, এখন আর রাখেন না।
কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের হেলাল উদ্দীন জানান, গোলায় ধান রাখা কৃষকের জন্য খুবই ভালো। কিন্তু এগুলো আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। গোলাগুলো আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে। আমার দাদার আমল থেকে দেখে এসেছি এগুলো। ধান রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষায় তাই এখনো রেখে দিয়েছি।
কোটচাঁদপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের গৃহবধূ মিম খাতুন জানান, আমাদের বাড়িতে একসময় ধানের গোলা ছিল; এখন আর নেই। তবে আমার চাচার বাড়িতে এখনো একটি গোলাঘর রয়েছে। জেলার প্রবীণরা বলছেন, আগের দিনে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গোলা থাকত। এখন আর নেই। নাতি-নাতনিদের কাছে বললে তারা বিশ্বাসও করতে চায় না।
প্রবাদের সেই গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ এখনো আছে। দেশের প্রতিটি কৃষক পরিবারে রয়েছে কমপক্ষে একটা, দুটি গরু, পুকুরও আছে অনেকের। শুধু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ধানের গোলা।
(যাযাদি/এস,থেকে আংশিক কপিকৃত)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত